তবে কি তুমি একজন গন্ডার হতে চাও?

দীর্ঘ আর ক্লান্তিকর এক এডভেঞ্চার শেষে একটা তুষার গৃহে তোমার প্রবেশ। কফির পেয়ালায় চুক চুক করে চুমুক দিতে দিতে তুমি একটা বিড়াল হয়ে যাও। আর  লোমশ শরীরে বহু পৃথিবীর মানচিত্র নিয়ে ইতি-উতি পিটপিট করে শেষটায় যখন হাপিয়ে যাও, দেয়াল থেকে একটা জাপানী যাদুবৃক্ষ তার বালেগ হয়ে যাওয়া ফল ছুড়ে দেয়। আর নিমিশেই তাবত দুনিয়ার সকল শীতল বাতাস আর বাতাসা যা জমিয়ে রেখেছিলে তোমার পাৎলুনে পকেটে, হুড়-মুড় করে বেরিয়ে আসতে চাইল! তুমি কেমন করে বাঁধা দিলে তাদের?
যখন  গন্ধ শুকে শুকে শহরের এগলি ওগলি, ঘুড়ে বেড়াতে থেকে, হারিয়ে যেতে থেকে, থেকে থেকে চিনে ফেল পথ, তোমার কি আমোদ হয়নি এমন,  হয়েছিল যেমন, প্রথম দিন, যেদিন দেখেছিলে এখনো পারছ চমকে দিতে নিজেকেই নিজের মত।
অথবা এও তুমি দেখেছিলে তোমার গল্প যেগুলো রেখেছিলে মগজে পান্ডুলিপি করে, কেও কোন দিন কিনতে চাই নাই সেগুলো অথাবা এসব হয়তো ছিলইনা কোন কালে, তবু ভেবেছিলে একদিন শুনিয়ে তাক লাগাবে। তারপরো বসে থেকে থেকে জোড়া শালিখের এস্পিওনাজ জগতে তুমি একটা মূর্খ কেঁচোতে পরিণত হও। হ্যাঁ আর সব শেষে তুমি এক বাহাদু্রী নিয়ে বলতে চাও, প্রতি আগামী দিন বাকি জীবনের প্রথম দিন।
নাকি তবে তুমি একজন গন্ডার হতে চাও? রঙ্গীন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে জিইয়ে রেখে নিজের চুরি যাওয়া শিং নিয়ে হাহুতাসে যখন আকাশ থেকে নেমে আসবে ছোট্ট একটা পেলেন, সেই পেলেনে বসে থাকবে ছোট্ট একটা মেম। তারপর তোমার কোন প্রশ্ন থাকবেনা, কারণ তুমি ভুলে যাবে ছোট্ট বেলার পন্ডস মাখা মুখে কি দুর্দ্ধর্ষ রোদ পড়েছিল।

দ্যা হিস্ট্রি অভ সেন্সরশীপ

সে অনেক কাল আগের কথা। যা কিনা একমাত্র পুরাণেই পাওয়া যায় , মুদির দুকান, পোঁদ+ওম আলো, ফেসবুক, কমুনিশ ফাট্টি , ছারত গীল, পোঁদআন মন্ত্রী কাহারু কাছে পাউয়া যাইবে না। তা কাহিনী হইল মনু এবং দনু দুই ব্রাদার। মানে উহাদের জীববৈজ্ঞানীক পিতা একই জন। তা ঐ মনু & দনু দুই জনই আদি পিতার সন্তান। আবার এমনও হইতে পারে তাহারা ভগবানেরই সন্তান। আমরা এই সম্পর্কে কিছুই ঠিক মতন বলিতে পারিতেছি না। তা কাহিনী হইল মনুর সন্তান হইল মানব, আর দনুর সন্তান হইল  দানব,  এইভাবেই আমরা ইতিহাস জানিয়া আসিতেছিলাম। কিন্তু কথায় আছে সত্য, আগুন , প্রেম, আর ছারত লীগের প্রতীভা লুকায়া রাখা যায় না। তাই যাহা হইবার তাহাই হইল , আজ এই সহস্র-অযুত-অর্বুন্দ বৎসর পর সত্য প্রকাশিত হইয়াই পড়িল।  গতকল্য আল-ভাউরা টিফি চ্যানেলে কে বা কাহারা যেন একটা ভিডু টেপ পাঠাইল। তাহাতে সারা দুনিয়া স্থম্ভীত হইয়া পড়িল। কাহারো মুখে রা পড়িল না। কি হইল আজি এই দিবসে কি হইল তাহারা ভাবিতে লাগিল। কিন্ত যাহা হইবার তাহাতো বহু বৎসর পূর্বেই ঘটিয়াছিল। ঐ ভিডু টেফ মারফত জানা গেল । মনু আর দনু তাহারা দুই ভাই নয়, তাহারা আসলে ৩ ভাই । মানে হইল তাহাদের ৩ ভাই , মানে বুঝিতে পারিতেছেন না তাহারা আসলেই ৩ ভাই ছিলেন। কিন্তু অদৃষ্টের নির্মম পরিহাসে ঐ ৩নং ভাইয়ের কুনু খোঁজ মানব এবং দানব সম্প্রদায় জানে না।  কিন্তু ঐ ভিডু টেফ সকল সমস্যার সমাধান করিয়া দিয়াছে । তাহা হইলে  আপনাদেরকে আমি কাহিনীটা খুলিয়াই বলি।
তাহারা ৩ ভাই। একই সাথে নানা কর্ম করিয়া থাকে।  কিন্তু এক অজ্ঞাত কারণে ৩নং ভাইটি ফেসবুকের স্ট্যাটাসে লেখে ছারত লীগের আদি সভাফতি দনু আর ছারত ধলের আদি সভাফতি মনু নিপাত যাউক। এই ল্যাকা দেখিয়া তারা দুই জনই খুব ক্ষেপিয়া যায়। তাহারা যারপরানই অসন্তুষ্ট হয়। তাহারা আরো ক্ষেপিয়া উঠে যখন দেখিল, বিষ্ণু, মহাদেব, রম্ভা, উর্বশী ঐ স্ট্যাটাসে লাইক মারিয়াছে। তাহারা মনে মনে মনে ভাবিল ঐ বিয়াদবটারে বিয়াপক শাস্তি প্রদান করিতে হইবে।  তাই তাহারা উভয়ে মিল্লা  মানে মনু আর দনু মিল্লা পল্টন প্যালেস নাম্নী এক হুটেলে গুফন মিটিং করল। কিভাবে ঐ ৩নংরে শাস্তি দেওন যায়। তাহারা পরের দিন ছুরি ,চাপাতি , রড ইত্যাদি লইয়া ৩নং এর রুমের সামনে দাঁড়াইয়া থাকিল। ৩নং যেই না ঘর হইতে বাহির হইল অমনি মনু-দনু দুইজন মিল্লা তাহারে কুপাইতে লাগিল। বেদম কুপানির পর যখন ৩নং মৃত প্রায় তখন সে অই দুই বড় ভাইরে অভিশাপ দিল। সে বলিল,  উরে আমার বড় ভাইরা আমি তো তুমাদিগরে হাতে মারিতে পারিলাম  না , তাই আমি তুমাদিগকে অভিশাপ দিতেছি, তুমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাহা ভোগ করিবা, তুমাদের পরবর্তী প্রজন্মের পুরুষগণের  শরীলে আমার শরীল হইতে এক খন্ড মাংশ উড়িয়া গিয়া জুড়িয়া বসিবে, তাহা আমার নামেই জ্ঞাত হইবে, আর তাহার কারণে তাহারা নানাবিধ অপরাধে লিপ্ত হইবে, এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই লজ্জা ভোগ করিবে।  এই বলিয়া সে মারা গেল। এখন আপনারা আমাকে জিগাইতে পারেন অই ৩নং ভাইয়ের নাম কি? তাহা হইলে আপনাদের সামনে আমি সত্য প্রকাশ করিয়াই ফেলি, ঐ ৩নং ভাইয়ের নাম হইল নুনু  ।

সর্ব শেষ কথাঃ ঐ ভিডু টেফ টিফিতে দেখান যাইনাই, কারণ মনু-দনু এখনো ক্ষমতায় ।

আমারে বাবায় দিসিল, একদিন দিতে চাইসিল আমারে বাবায় দিসিল।

আমারে বাবায় দিসিল,

একদিন দিতে চাইসিল

আমারে বাবায় দিসিল।

আমার টুথব্রাস আর গঞ্জী

আর আরো ওনেক কিছু এখন বাতাসে ঝুলে

দোলে আর দোল খায় আমার জিন্সের প্যান্ট

তারা রিক্সার প্যাডেলের মতন আবার ফিরা আসে

কি জানি , কে কবে কইসিল

দুকান ভাড়া দিব

আমি কইলাম ঘেউ

আমারে কইল গল্লির শেষ মাথায় আছে এক খাম্বা

আমি কইলাম সরি

অম্নি হঠাৎ কইরা আমার হাতে ধরা ঝর্ণা কলম মাটিতে পইড়া যায়

মাটিতে পইড়া কলম ভাইঙ্গা যায়

এই কলম আমার বাবায় আমারে দেয় নাই

আমি চুরি করসিলাম

আমারে আরো কয় নিবা নি?

আমি মাথা দুলাই, দুনিয়া দুলাই

আমারে কইল দুলাভাই, ও দুলাভাই

আমি কইলাম ঘেউ

আমার জিন্স অমনি একটা বাতাস হয়া যায়

আমার মুবাইল হয়া গেল একটা বিরাট গত্ত

আমি কইলাম , আমার কানে কি জানি আহে

আমার কানে কি জানি যায়

আমার ত্বর সয় না

জ্বর সারে না

আকাশ থাইকা ঝইড়া পড়ে হাইব্রো ব্রয়লার

আকাশ থাইকা ঝইড়া পড়ে সিনামে রিল

ছুটু বেলার ঐ যে পুষ্কুনিতে চাড়ার ঢিল

ঐ সবি অই খানে

আমি এখন আর ঐসব দেখি না, চিনি না

ঐযে ঢালু রাস্তা আর দুনিয়া যত্তসব পুকা-মাকড়

আমি এখন ছবিতে দেখি

আমারে কইল পাখি

আমি কইলাম ঘেউ

আমারে কইল একটা দুকান ভাড়া হইবো

আমি কইলাম একটা বেহালা বাজাইসিল দারুয়ান

একটা সাদিন্দা বাজাইসিল নারায়ণ

একটা চুমা দিসিল কাঠ বাদাম

কুলা-কুলি করসিল চাম্পা কলা

একটি প্রেমের গল্প

আমার মনে পড়ে অথবা মনে নাই। খুব কুয়াশার মত করে স্মৃতিগুলো কোথায় যেন থাকে। হয়তো দুরে দেখি ঘনকুয়াশার মতন গাঢ় স্মৃতিগুলো অথচ কাছে এলেই কেমন যেন ক্ষীণ হয়ে যায়। এরই মাঝে আমার মগজে-রক্তে-মাংশে প্রবাহমান স্মৃতিগুলোর অস্তিত্ব টের পাই। শুধু কাছে এলেই নাই। আমার হতো মনে পড়ে প্রথমবার ঘুম থেকে জেগে উঠার কথা। কোন একটা মাটির ঘর, হয়তো। ছোট্ট একটা জানালা দিয়ে অবিরাম হাওয়ায় জেগে উঠেছিল আমার শরীরের লোমগুলো। আমার নগ্ন শরীরে কেমন যেন একটা অবসাদ। হয়তো দীর্ঘ ক্লান্তিকর এক অভিযানের পর এই প্রথম একটু জিরিয়ে নেয়া। অথবা অনন্ত কাল ধরে জিরোতে, জিরোতে, ঘুমুতে, ঘুমুতে, বিশ্রামে, বিশ্রামে আমি ক্লান্ত। অথবা এই ক্লান্ত হতে হতে আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তার পর জেগে উঠে কোন কিছুই আমি চিনতে পারি নাই। চিনে নিতে খুব একটা ইচ্ছাও হয়তো করেনি।  শুধু অস্পষ্ট এক নারী মূর্তী  জেগে উঠে ছিল চোখে। দরজাটার দিকে দাঁড়িয়ে। হয়তো ঠিক তখনি প্রথম আমি আবিষ্কার করলাম আমার ঘ্রাণানুভূতি। বাতাসে বাতাসে ভেসে আসা ঘ্রাণটা হয়তো ঠিক বসন্তের বাতাসের মতন ছিল, ভেজা আর ভারী আর অবসাদময়। অথবা ঘ্রাণটা হয়তো ছিল ভাদ্রের কড়কড়ে রৌদ্রের মত তীক্ষ্ণ, হাওয়ায় হাওয়ায় জানিয়ে দিচ্ছিল তার অস্তিত্ব। আমি তাকে চিনি নাই , কোন দিন হয়তো চিন্তেও পারবো না। তার পরও তার সাবলীল দেহভঙ্গী, মৃদু মৃদু উড়তে থাকা চুলগুলো অথবা তার দেহের এক পাশে সরু সাপের মত জেগে ওঠা সূর্যের আলো, আমাকে খুব করে মনে করিয়ে দিতে চাইছিল আমি তাকে চিনি। তার পর ও আমি তাকে চিনতে পারি নাই। হতো কিছু একটা বলেছিল সে, অথাবা আনমনে শুধু নাড়িয়ে ছিল ঠোঁট। আমার শুধু মনে পড়ে তার কেঁপে কেঁপে ওঠা ঠোটের ভাঁজ গুলো। অথাবা এও হয়তো আমার মনে নাই। তারপর কখন যে সব কিছু হারিয়ে গেল…

স্মৃতিগুলো ঠিক ছোট্ট কচুরি পানার মতন।  পুকুরে নেমে যতই কাছে যাওয়া যায় , একটু একটু করে দুলতে দুলতে দুরে সরে যেতে থাকে ছোট ছোট ঢেউ অথবা তরঙ্গের সোয়ার হয়ে।  দিত্বীয়বার যখন ঘুম ভাঙ্গে মনে পড়ে শরীর জড়িয়ে ধরে রেখেছিল খুব মোটা আর ভারী একটা কম্বল।  হয়তো এই কম্বল্টা সরাতে গিয়েই  আমি টের পাই আমার মাথার পিছন দিকটায় একটা চিন চিনে ব্যাথা। ঘাড়ে অযুত মণের পাথর। আর হতো চোখে পড়ে বাঁ হাতের কুনুইটা কাছে পুড়ে যাওয়া রক্ত আর মাংশের ক্ষীণ আর সরু একটা রেখা। ঘরটা হতো মাটি থেকে অনেক উপরে। নাইলে চোখ মেলেই কেনো দেখেছিলাম একটা ঝুল বারান্দা আর তার ও পাশে বিষন্ন এক রূপালী আকাশ।  হয়তো ছিল কাছেই কোথাও, হাজারো মানুষের ভোঁতা একটা কোলাহল।  আর মাঝে মাঝে কে যেনো চিৎকার করে হাঁক দিচ্ছিল। আমি কছুই বুঝতে পারি নাই।  আমি হয়তো খুব একটা কৌতুহলী হয়ে পড়েছিলাম। খুব করে ঊঠে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। আমার সারা শরীর জুড়ে দগদগে জ্বলন্ত ব্যাথা আমি টের পেয়েছিলাম হয়তো। তার পর খুব ধীরে  আমি নড়িয়েছিলাম আমার পা দু’টো, যেন ঘুণাক্ষরেও আমার শরীরের ব্যাথা গুলো আমার বিদ্রোহের কথা না জানতে পারে। আমি আরো সতর্ক হয়ে ধীরে ধীরে হাত দু’টো কে নিয়ে আসি উরুর কাছটায় আথবা উপরে। অনুভব করেছিলাম হয়তো প্রবাহমান রক্তের ধারা, এখনো একনিষ্ঠ ভাবে বয়ে চলেছে। চুপি চুপি বিছানাটা ছেড়ে উঠে আসি। টলতে টলতে হয়তো দাঁড়িয়ে ছিলাম ব্যালকনিটার কাছে। ঘন এক প্রস্থ মেঘ হয়তো তখনি চোখের সামনে এস দাঁড়িয়ে ছিল মূর্তীর মতন। চোখ ফিরিয়ে হয়তো তাকিয়ে ছিলাম নীচের দিকে। সামনে খানিক দূরে বসেছিল হাট। গিজ-গিজ করছিল মানুষের মাথা। এমন সময় হয়তো এই ভীড়ের ভেদ করে খুব ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসেছিল একটা ঘোড়া। দেখে হয়তো মনে হয়েছিল উপরে বসা সোয়ারী খুব দুর্বল আর প্রবল অনিচ্ছাতেই ধরে রেখেছিল লাগামটা। আর আস্তে আস্তে যখন আমার চোখের খুব কাছে চলে এল ঘোড়াটা , ঠিক যতটা কাছে এলে, মানুষ চিনতে পারে অন্য কাউকে ততটাই কাছে এসে, দুমড়ে একপাশে পড়ে গেল ঘোড়াটা। আর সোয়ারী হয়তো তাই চেয়েছিল। আমার কোন উদ্ববেগ হয়নি , কোন উৎকন্ঠা হয়নি, হতো কোন কিছু দেখতে, জানতে , শুনতে অথবা ধরে থাকতেও মনে হয়নি। শুরু মনে হয়েছিল আমার ওজন হয়তো কমে গিছিল অনেকটা । নিঃশ্বাসের সাথে বরিয়ে গিয়েছিল অবসাদের ভার। কেন জানিনা ঠিক তখনি আমার মনে হয়েছিল আমি খুব একা। একদিন হয়তো আমার কোন সঙ্গী ছিল, এখন নাই। একদিন হয়তো আমি কারো সাথে কথা বলতাম, হয়তো কারো শরীরের ঘ্রাণে মাতাল হয়ে থাকতাম। মুখের ভিতর কেমন জানি একটা তিতকুটে ভাব এসে আরো গভীর করে দিতে থাকল অনুভূতিগুলো। আমি ভয়াবহ ভাবে একা। আমার হয়তো কোন সঙ্গী ছিল। তার কথা আমার মনে নাই।  তাকে আমার মনে নাই। মুখের ভিতর তিতকুটে ভাবটা আরও বাড়া শুরু করছিল হয়তো, আর খুব করে মনে হচ্ছিল আমি খুব একা। হাহাকার না , বেদনা না, আনন্দ না, সুখ না, দুঃখ না, কিছুই অনুভূত হচ্ছিল না হয়তো, শুধু মনে হয়েছল আমি খুব একা।

এর পর কোন একদিন জেগে উঠেছিলাম কোন এক স্যাৎ স্যাতে ঘরে। হয়তো মাথার উপর ঘুর্ণায়মান ফ্যানটা প্রতিবার ঘোরার সাথে সাথে জানিয়ে দিচ্ছিল তার বয়স আর জানিয়ে দিচ্ছিল তাচ্ছিল্য। সময় কত তা ঠিক করে বুঝার ও উপায় ছিল না হয়তো।  অথবা হয়তো কোন দিন সময় জানবার প্রয়োজন ও ছিল না আমার। মনে হয়েছিল এখনো বোধয় সকাল হয় নি, এখনো বোধয় গিভীর রাত। আমার জেগে ওঠার কারন সম্পর্কে ভাবার চেষ্টা করেছিলাম হয়তো, ভাবতে পারি নাই। আমার মাথাটা নিরেট ফাঁকা । মনে হল আমার নগ্ন পিঠের দিকের ঠিক মাঝখানটায় কি জানি এসে পড়ল। হঠাৎ করেই আমি আতংকিত বোধ করা শুরু করি। আরো কি জানি এসে পড়ল আমার পিঠে।  আমি হয়তো কিছু একটা ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ শুনলাম। ভয়ে আতংক আমার ইন্দ্রিয় গুলো আরো সজাগ হয়ে উঠেছিল হয়তো।  অজস্র ডানা ঝাপ্টানো শব্দে আমার কানে তালা লেগে যেতে থাকে। আমার সারা শরীর জুড়ে আক্রমণ করতে শুরু করে তারা। কি যেন অদ্ভুত এক আক্ররোশে উন্মত্ত হয়ে একের পর একে হামলে পড়তে থাকে আমার শরীরে। হয়তো মনে হয়েছিল তার অজস্র-অযুত। আমার রক্তে-চামড়ায় আঘাতে আঘাতে নিতে চাইছে   অতীতের প্রতিষোধ।  আমার ভয় বাড়তে থাকে। আমিও উন্মত্ত হতে থাকি। অন্ধকারে দেয়াল হাতড়ে হাতড়ে খুতে থাকে সুইচ বোর্ড। হতো একশ কোটি বছরের পর আমি খুঁজে পাই একটা সুইচ। জ্বেলে দি আলো। আমি তাকিয়ে দেখি আমার পুরো ঘর জুড়ে লক্ষ-কোটি পোকা। আমি তাদের চিনি না। কোন কালে দেখেছি বলেও মনে পড়েনি হয়তো। আমি জানি আলো জ্বালতেই আমার ভয় আস্তে আস্তে আক্রোষে পরিণত হয়ে উঠেছিল। আমি বিশ্বাস করতে শুরু  করতে আমার বৃহৎ আকার আর অবয়বের প্রতি। আমি বিশ্বাস করে শুরু করেছিলাম হয়তো আমার হিংশ্রতার উপর। আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম খুনে নেশার উপর। উন্মাদ হয়ে ঝাপিয়ে পড়ি তাদের উপর। হাতে-পায়ে একে একে পিষে মারতে শুরু করি তাদের। আমার জীবনের সমস্ত ব্যার্থতার দায়ভার তাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলাম হয়তো। আমার জীবনের সমস্ত অবদমনে দায়ভার তাদের এখন। আমার জীবনের সমস্ত পাপের দায়ভার তাদের এখন। আমি তাদের মারতে থাকে। পিষে মারতে থাকি, দুমড়ে মুচড়ে দিতে থাকি, ছিড়ে ফেলতে থাকি তাদের ধর-মস্তক-পাখা। আমি উন্মত্ত থাকি , স্বেচ্ছাচারি থাকি তাদের সবার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

যখন আমার ঘুম ভাঙ্গে তখন শেষ বিকাল, হতো দাঁড়িয়ে আছি গৌড়িয়া মঠের সামনের রাস্তায়। আমার চোখের সামনে ভীড় করা কালো কালো মেঘ বিকালটাকে করে দিয়েছে অন্ধকার রাত। ছাই রাঙ্গা আলোতে রাস্তা-গাছ-গাড়ি কিছুইকেই খুব আলাদা করে , খুব স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছে না। আমি হয়তো বিগত শতক ধরে হাটছিলাম। অথাবা ঠায় দাড়িয়ে ছিলাম এই খানে এই মাঝ রাস্তায়।  আমার মনে হতে থাকে আমার ঠোঁটে লেগে আছে কোন যুবতীর স্তনের স্বাদ, নাকে এখনো ভেসে আসছে তার শরীরে অবাধ্য ঘ্রাণ।  এই সবই আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায় হয়তো কোন এক অন্য সময়ের মাঝে, অথবা এখনি সেই সময়। আমি সামনে হাটতে থাকি। আমার কোমরে টের পাই এক খন্ড ধাতুর অস্তত্ব। আমার শার্ট উচিয়ে দেখার চেষ্টা করি। কালো এক টুকরো কোনা কুনি ভাবে বাঁকানো ধাতু টুকরা। অথাবা অসংখ্য ধতুর টুকরো দিয়ে বানানো কিছু একটা জিনিশ। আমি ঠিক জানি না। আমি হয়তো চিনতে পারি নাই। আমার মগজে শুধু, টুকরো টুকরো ঘ্রাণ আর স্বাদ ঘুরছে , পাঁক খাচ্ছে , দুলছে , ঢেউ তুলছে। তখন হয়তো আমার মনে পড়ে যেতে থাকে , কোন এক দুপুরের কথা, কোন এক তীক্ষ্ণ রোদের কথা, জানলা দিয়ে এসে আলতো করে বসে ছিল এক যুবতীর গালে, ঘামে। সে হয়তো বসে ছিল,অথবা দাঁড়িয়ে। দুপুরের রোদ আমার চোখ ঝলসে দিয়েছিল, পুড়িয়ে দিয়েছিল আমার মগজ-খুলি । আমি যুবতীর কাছে যাই। হয়তো তার নরম পেলব দেহের পাশে অনেক্ষণ ধরে বসে থাকি। অথবা হয়তো ঐ রোদ যুবতীর গালের উপর বসা, ঘামের উপর বসা, ঠোটের উপর বসা রোদ আমাকে অজগর করে তুলেছিল। আমি তাকে আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরি। তার নড়ার ক্ষমতা থাকে না। আমি তাকে আমার দেহে মিশিয়ে ফেলতে চাই, পিষে ফেলতে চাই। তার মাংশ ভেদ করে ঢুকে যায় আমার মাংশ, তার অস্থি ভেদ করে ভীতরে প্রবেশ করে আমার অস্থি, তার রক্ত ভেদ করে কল কল করে ঢুকে পড়ে আমার রক্ত। সে তার অস্তিত্ব হারাতে থাকে , আমি আমার অস্ত্বিত্ব হারাতে থাকি। আমি খুনী হয়ে উঠতে থাকি, আমি আরো লোভী হয়ে উঠতে থাকি। আমি পশু হয়ে উঠতে থাকি, আমি প্রেমিক হয়ে উঠতে থাকি। আমার শরীরে প্রবেশ করেত থাকএ দুপুরের ঝাঝালো রোদ, আমি প্রবেশ করতে থাকি যুবতীর শরীরে , যুবতী প্রবেশ করতে থাকে দুপুরের ঝাঁঝালো রোদের শরীরে। আমার আর কিছু মনে থাকে না, শুধু টের পাই যুবতীর ত্বকের ঘ্রাণ। আমি আরো সামনে হাটতে থাকি, পুরো পৃথিবী নিঃশব্দ হতে থাকে।

আমার ঘুম ভাঙ্গে রিক্সার বেল শুনে। আমি দেখি কুচকুচে কালো এক রিক্সা ওয়ালা আমার দিকে তাকিয়ে আছে কেমন যেন আপত্তিকর জিজ্ঞাসু ভঙ্গীতে। আমার মনে হল আমি তাকে চিনি। অসংখ্যবার আমি তাকে দেখেছি অসংখ্য রাস্তায়, বেল বাজাতে, খিস্তি খেউরে ভাসিয়ে দিতে, ঘাম ফেলতে, ভাসমান গণিকাদের সাথে দাম-দরে হেরে যেতে। আমার ভাবনা ভেঙ্গে দিয়ে সে হয়তো বলে উঠল, ‘উডেন’। আমি বাধ্য ছেলের মত উঠে পড়ি রিক্সায়। হাওয়ার বেগে উড়তে থাকে রিক্সা, আমি বলি আস্তে চালান, আমার দিকে ক্ষনিক ফিরে তাকায় রিক্সা ওয়ালা। সে আমার কথা শোনে না। তার হয়তো অনেক ত্বাড়া। সে উড়িয়ে নিয়ে যেতে থাকে আমাকে , কালো পীচ ঢালা রাস্তা থেকে আস্তে আস্তে  আকাশে উঠতে থাকে। রিক্সা আরো জোরে চলতে থাকে, আরো উপরে উঠতে থাকে। আমি নীচ দিকে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করি। এই রাস্তা আমার চেনা, হয়তো প্রতি জন্মেই আমি এই রাস্তা ধরে হেটে গিয়েছি। আমি দেখতে থাকি উদ্যানের গাছ গুলো , আমার কৈশর, তারুন্যের সাক্ষি হয়ে এখনো দুলে চলেছে। আমি দেখতে থাকি আমার পরিচিত রাস্তার বাঁক , বাজার । এই সবই আমার চেনা মনে হয়। ধুলা-হাওয়া-গন্ধ আমার খুব পরিচিত লাগে। রিক্সার গতি আরো বাড়তে থাকে, আমি ভয় পেতে থাকি, আমি সুখ পেতে থাকি, আরাম পেতে থাকি। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। আমার হাতের দরকারি কাগজ-পত্র ভিজে যেতে থাকে। আমার শৈশব মনে হতে থাকে। আমি আবিষ্কার করতে থাকি আমার অনুভূতি গুলো। আমি ভীষণ ভালবাসতে শুরু করি। আমি অপেক্ষা করতে শুরু করি। আর হয়তো আমি ভেবে সুখ পেতে থাকি , আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে কেউ। আমি ঘুমিয়ে পরতে শুরু করি।

কাইল ঈদ!!

কাইল ঈদ মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দ। খালি মন্টু মিয়ার ঘরে আনন্দ নাই। থাকবো ক্যামনে চানরাইতে গাদ্দাফীর বাংলার দুকানে পুলিশ রেইড দিসে। ফলাফল পুরা মহল্লার চানরাইত মাটি। বড়লোক সাহেবরাতো আইন পাশ , উরা বার কাউন্সিলে একটা পরীক্ষা দিলেই কেল্লা ফতে, সকালে-বিকালে-রাইতে-বাইত্তে যে যেখানে পারে তাই নিয়ে ঝাপায়া পরে। আর সন্ধ্যা অইলেই তার বুতলে কইরা খ্যাল্যা বুনী,ওগ্যাই কোদেল, ফিলিপা এমিলত্যো বাইত্তে লয়া আহে নাইলে দোস্তেগো বাইত্তে যায়। তার পর গেলাশের ভিত্তে সেকি জলকেলী গো……। কিন্তু মন্টু মিয়ার বাঙ্গী ফটাশ। ট্যাকাউ নাই মালও নাই। সো চানরাইতে নো হাঙ্কী-পাঙ্কী। মন্টু মিয়া একলা একলা বাইত্তে বয়া থাকে। ঠিকা বাড়িতে না তবে এইটা ঠিক সে বাড়ির সামনে বইসা থাইকা ‘বাচুপান কে মহাব্বত হো…ম্যায় ভুলা নেহীঁ’ শুনতে থাকে। তা কাহিনী হইল অই পথ দিয়া বটু মহাজন হাইটা যাইতা সিলো। মন্টুরে দেইখা বটু মহাজন খাড়ায়া পড়ল, জিগাইল
কিরে মন্টু খিচকায়া রইচছ ক্যা? কি অইছে?
মন্টু কইল, না মহাজন কিচু অয় নাই , অইলেতো দ্যাখতেনি।
মাগীগো মত দেমাগ চুদাস দেহী? গুয়াডা মারছে কেঠা?
পুলিস, জানেন না আইজ রেইড মারছে, খাঙ্কীর পুতেরা মাল খাইছে মগার আমাগো খাইবার দিবো না।
অ ভাইগ্নার তাইলে এই কাহিনী। হালাত তরতো সান্ডে-মান্ডে কুলোজ, খ্যাখ খ্যাখ খ্যাখ…
হাসি চুদায়েন না মহাজন, আপ্নেতো বাইত্তে গিয়া মাগী লাগাইবেন আর টানবেন, টান্তে টান্তে লাগাইবেন , লাগাইতে লাগাইতে টানবেন। আমি হালায় হাওয়ার পো নিজেরটা নিজেরটার ভিত্তে ভইরা বয়া থাকুম। যান যান মাল-মাগী-মাস্তীতো আপ্নেগৈ।
হা হা হা হা হা কান্দিস না মন্টু , আমার লগে চল তরে খিলামু নে।
এতক্ষণে মন্টু মিয়া বুকে বল পাইল। সিস্টেম তাইলে কামে দিসে। চল মহাজন আইজ তাইলে তুমারেই উপ্তা কইরা…
তারা দুই জন হাটতে লাগ্ল, হাটতে হাটতে বাবু বাজারের বীরীজের সামনে আয়া মহাজন কইল
হালায় রিস্কা –গাড়ি কিচুই নাই, ভাইগ্না তাইলে পুরা রাস্তা হাইট্টাই লও।
মন্টু বেজার হইল, ভাব্ল চুদির ভাই খিলাবি খিলা হাটাচ ক্যালা। যাউক্কা মন্টু হাটে মহাজন আরো আস্তে হাটে। হাটতে হাটতে মন্টুর মনয় এই পথ কুনু দিন শেষ হইবো না, উত্তম-সূচীত্রার ফিতা আটকায়া গেছে। মামা হুন্ডা যতই চালাউ রুড খতম হইবো না। উহারা হাটতে থাকে, সময় পার হইতে থাকে। মন্টুর মালের নিশা চাউর হইতে থাকে । এমন সময় মাহাজন কইল,
ভাইগ্না আমারত আর ভাল্লাগে না, খাড়া রাস্তার উপ্রেই মাইরা দেই।
মন্টু এইরোম হইবো আশা করে নিকা। দে হালায় আইজ খাড়ার উপ্রেই……
মন্টু খায় এক সিপ, মহাজন এক সিপ, মন্টু খায় এক সিপ, মহাজন এক সিপ, মন্টু খায় এক সিপ, মহাজন এক সিপ।
এম্নেই চলতে থাকে। এট্টু পরেই মন্টু নিশা হয়। মহাজনের ধরে সাথে সাথেই।
মহাজন কয়,
ভাইগ্না মন্টু, লাইফ ইয এ মালের বুতল, পিনেকে লীয়ে, মাগার কুলি করনে কে লীয়ে নেহীঁ।
মন্টু মাথা নড়ায়। মহাজন কইতে থাকে আর মন্টু মাথা নাড়াইতে থাকে। এই করতে করতে মন্টু মহাজনের গুয়া মারার কথা ভুইলা যায়। মহাজন কয়
মন্টু রে মন্টু ইউ আর মাই ব্রাদার…
মন্টু কইল, কি কন ভাতার?
ইয়েচ ইউ আর মাই ব্রাদার…
এমন সময় আকাশ থেকে নমে এল ছুট্ট একটা পেলেন, সেই পেলেনে বসে ছিল ছোট্ট একটা মেম, মেমকে মহাজন একটা প্রশ্ন করল ওয়াটিয ইউর নেম, মেম তাহকে উত্তর দিল…শেম শেম শেম তুই আমারে চিনা পারতাছচ না? আমারে না চিনে কেডা? ভুদাই কুতাকার।
মহাজন একটা ঝাড়া দিল। ঠিক কইরা মেমের মুখের দিকে তাকাইতে চেষ্টা করে , মগার যালেম দুনিয়া পাপের চোখ, নিশানা খালি বুকের দিকেই। মেম কইল, মাগীর পুৎ উপ্রে দেখ। মহাজন পিনিক পাইল, চোক্ষু ঘষা মারল তারপর কুনু মতে চোক্ষু দুইডারে মেমের গলা পর্যন্ত উডায়া আনল। কিন্তু মাম্মার চক্ষুতো শালা মিডিল ক্লাস গ্রাভিটি পাইলেই হইছে খালি নীচে যাইতে চায়। কিন্তু কি আর করা মহাজন তার চক্ষু দুইডারে আরো খাটনি কইরা মেমের থুত্নী পর্যন্ত উডাইলো। কইল, ম্যাঠম গুস্তাকী মাফ,আম্নেরে চিনা পারতাছি না।
মেম কইল , উ আনখ্যালচার্ড ব্যাস্টার্ড তুই আমারে ক্যামনে চিনবি , চিনবোতো তর বাপে।
সরি আম্মা গলতি কইরা হালাইছি, আমিতো হেপারের পুলা কি থাইকা কি কই……
অই ভুদাই আমি তর মা হইলাম ক্যাম্নে? মেম চ্যাইত্তা গেল। মন্টু এতক্ষণ ধইরা এইসব বাৎচিৎ হুন্তাসিল, কিন্তু তার মাথায় কিছু ধরতাসিল না। কিন্তু তার মনে হৈল তার ও কিচু কউনে আছে। মাতাল মানুষ মাথা কি আর ঠিক থাকে। মন্টু চিল্লায়া কইতে লাগল,
ইয়েচ ছার ভেরী গুড,
মেম খায় চা বিস্কুট!!
লগে লগে মেম আর মহাজনের টাশকি লাগ্ল। তারা দুই জনি ঝিম মাইরা গেল। উরা দুই জন ঝিম মারছে দেইখা মন্টুও খিছখাইল। ভাবতে লাগল এইডা কি হইল। পুরা দুনিয়া খিছখাইল কেমনে? এমন সময় মহাজনের হাতে ধইরা থাকা মালের বুতল মাডিত পইড়া গেল। লগে লগে সবাই দুনিয়াতে ফিরা আইল। মেম ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় কইল,
হোট ইয দিস ঘটল? ইয ইট সাম্থিং লাইক কাচা মরিচ অর সামথিং এলস্‌?
মালখাওয়া মন্টু আর মহাজন মেমের কথার আগা মাথা কিছুই বুঝল না। তারা মেমের দিকে বেকুবের মত চায়া থাকল। তবে মহাজন এইবার সাহস লয়া কয়া ফালাইল,
মিট উইথ ফুকিরনির পুৎ মাই মহল্লার সিস্টার্স ক্যাসেট মন্টু মিয়া।
সাচ এ স্যাভেজ, মেম নাক শিটকায়া কইল। মেম মহাজনের দিকে তাকায়া আবার কইল, আমি গেলাম তুমাগো মত আগল-পাগলের সাথে কথা কয়া লাভ নাই, আই হ্যাভ টু গো টু মাই ফিঁয়সে হাবু হোসে।
কি কইলেন আবুল হুসেন? কইল মহাজন।
তুই কানেও কম শুনছ নিকি? মেম রাইগা গেল। উলটা ঘুইরা প্লেনের দিকে হাটা দিল। তার পিছ পিছ মন্টু আর মহাজন ও আইতে লাগল। মেম হাটনের শব্দ শুইনা পিছে ঘুরইরা দেখল তারা দুই জন তারে ফলো করতাছে। মেম জিগাইল, কি চাই আবার?
মহাজন কইল , ম্যাঠম চানরাইত গাড়ি পামু কই? এট্টু বাড়ি যামু আর কি , তা আপ্নের পিলেনে যুদিল এট্টু জায়গা দিতেন , মানে খাড়াইতে দিলেই হইবো।
মেম ভুরু কুচকাইল, তারপর কইল আইচ্ছা ল। মেমের পিছে পিছে উরা দুই জন আইতে লাগল। পিলেনের কাছে আয়া দেখে পিলেনের ডেরাইভার মনমোহন সিংস্‌ চিল্লায়া চিল্লায়া কইতাছে ,
অই গাবতলী, আরিচা, বগুড়া, নওগাঁ………ডাইরেক ডাইরেক……
এইবার মেম জিন্দেগীর সবচেয়ে বড় টাশাকা খাইল। অয় মনমোহনরে জিগাইল, এই এই হোয়াট ইস দ্যা ফাকিং থিং ইয গোইং অন? আমার প্লেনে এই সব সাকিং থিং কি হইতাছে?
মনমোহন নির্বিকার ভাবে উত্তর দিল, মালিকের হুকুম মানে আম্নের হবু স্বোয়ামী কইছে এক্সট্রা ট্রিপ মারন লাগবো। যত টেকা তত ফয়দা।
ও , মেমের মন্ডা খারাপ হয়া গেল। আশে পাশে তাকাইয়া দেখল , পিলেনের ছাদেও মানুষ উইঠা বয়া আছে।কিন্তু কি আর করা হাজার হইলেওতো প্রাণেস্বর তার কথা বাইরে যাউয়া যায় কেমনে? তাই মন খারপ হইলেও মেম , মন্টু আর মহাজনরে লয়া পিলেনে উডল।
আধা ঘন্টা পরে পিলেন চলতে শুরু করল। টেক অফ করার সময় সটাৎ কইরা মাইকে এক মহিলার গলার আউয়াজ শুনা গেল, এই সিংস্‌জী ছাড় বলছি, এভাবে দুষ্টুমি করোনা…হি হি হি হি ……আমাকে মাইকে ঘোষণা দিতে হবে……যাহ্‌ দুষ্টু…………
খুখ…খুখ……… যাত্রী ভাই বোন্দের সবাইকে আসসালামু ওয়ালাইকুম, মাজা ভাঙ্গা এয়ার লিফটের পক্ষ থেকে আমি আমি মমতা আপনাদের সবাই কে জানাচ্ছি স্বাগতম………তার পর মমতা দিদি অনেক কিছু কইল যেমুন ধরেন ক্যাম্নে সিট বেল্ট বান্ধন লাগে, অমুক তমুক হেন তেন……
পিলেন আকাশে উড়তাছে । মেমের মন্ডা খারাপ। মন্টু আর মহাজন পিলেনে উইঠাই ঘুম দিছে। তাই তাগো মনের কি আবস্থা কওয়া পারতাছি না। মেম খালি আসমানের দিকে তাকায়া আছে। হঠাৎ কইরা মেম দেখল আসমানে একটা গর্ত, আর পিলেন্ডা ঠিক অই গর্তের দিকেই ধুমায়া আগাইতাসে। মেমের হাত-পাউ ঠান্ডা হয়া গেল। গলা শুকায়া গেল। তার মনে হইতে খালি লাগল উত্তরার ফিলাটে খালি কামের বেটি আর তার ফিঁয়সে আছে। আইজ রাইতে বাড়ি না ফিরা পারলে, হাবু হালায় তো ঐ বেডির রুমেরই গুলিস্তাঁ বানাইবো। মেম আরো ভয় খাইল। পিলেন তখনো ধুমসে অই গর্তের দিকে আগায়া যাইতাছে। মেমের আবস্থা পুরাই কাহিল। ঈদে কেনা তার নতুন লেহেঙ্গা আর শাড়িডা পিন্দা হইল না। সব অই কামের বেডিই পিনবো। কামের বেডির কথা মনে পইড়া মেমের আরো বেশী কান্দন আইতাসিল। মেমের হাত পাউ নীল হয়া যাইতাসে। আর পিলেনের উপ্রের লুক জন আতঙ্কে চিকুর পারতাছে। মহাজন আর মন্টু নাক ডাইকা জেট ইঞ্জিনের লগে পাল্লা দিতাছে। পিলেন্ডা যখন গর্তডার খুব কাছে তখন মেমের আর কুনু আতঙ্ক-ভয় কিছুই লাগতাছিল না, খালি একটা কখা তার মনে হইল, হালার মনমোহন, গর্ত পাইলেই হইছে , ঐ দিকে অয় যাইবোই।

বজলার জীবনে প্রথম হতাশা ; তবে শেষটা মন্দ নয়

আরফান আহমেদ

জীবনে তখন তাহার সুনসান নীরবতা। কেউ কুতাও নেই। চারিদিকে ধু ধু মরুভূমির মতন কাহিনী।  তারপরও বাঁচিয়া আছে  কেন তা ভেবে কুলকিনারা পায় না বজলা। এই জীবন তাহার আর সহ্য হইতেছে না। কি আছে এই জীবনে ? কি নিয়ে বেঁচে থাকা যায় এই জীবনে? কিচ্ছু নাই, কিচ্ছু নাই। এমন করিয়াই বজলা ভাবিতে চায়। এই যে নিজেরে দুঃখী ভাবার একটা প্রবণতা বজলার মাঝে অতি মাত্রায় প্রবল। তাহার প্রেমীকা গত হইয়াছে কয়েক বছর হয়। এর মাঝে অর হৃদয়ের দরজায় অনেক ছুইট গার্ল টুকা, চড়, কিল, থাপ্পর ইত্যাদি মারিয়া গিয়াছে। কিন্তু কাহিনী হয় নাই কুনু। কারণ দরজা খুলিবার আগেই তারা পাগার পার; কি কারণ, ভাবিয়া কুল পায় নাই বজলা। তাই দিন দিন নিজেরে আরো একা একা মনে হইতে লাগিল তার। এই পৃথিবীর রং-রূপ-রস , শীলার যৌবন, মুন্নির মালিশ কিছুই তাহার মন ছুঁইয়া যায় না এখন।

এমন করিয়াই দিন কাটিত বজলার।  কাটিতো না আসলে , কাঁইচিতে ধার ছিল না, কাটাইয়া লইতে হইতো।  কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম চুলকানী, এই নিঃস্তরঙ্গ জীবন আবার সুনামীতে কাপিয়া উঠিল, ভিসুভিয়াস, ফুজি, কিলিমাঞ্জারো ইত্যাদির অগ্নুৎপাতে জীবন ধুমায়িত হইয়া উঠিল। আমি জানি আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগিতেছে, তবে আমি বলি আপ্নরা যা সন্দেহ করিয়া লইয়াছেন তাহাই ঠিক ……… বজলার মনের মানস সরবরে এক নতুন ঈস্বরী জলকেলী শুরু করিল। জলে মদ্ধে তাহার সে কি দাপা-দাপি!! কিন্তু হইলে কি হইবে? অই নারী মানে বজলার মনের ঈস্বরীতো তাহাকে চায় না। সে হয়তো চায় ওন্য কাউরে। কিন্তু তাতে কি? প্রথম দর্শনেই বজলা খাইলো পিছলা, তারপর হইতে তাহার মাজা আর ঠিক হইতেছে না। তাহার মাজা ফজলার  দিকে কাইৎ হইয়া থাকে সব সময়।

ফাজলা মানে ফজিলাতুন্নেসা, বন্ধু বান্ধব তাহার নাম সংক্ষিপ্ত করিবার তরে নাম দিয়া ছিল ফজিলা, কিন্তু দেশেতো আর বিটকেল পুলাপানের অভাব নাই, তাহারা তাহাকে প্রথমে ফাজিলা পরে সরাসরি ফাজিল বলিয়া ডাকিতে শুরু করিল। তাই সে নিজেই উদ্যোগ গ্রহণ করিয়া নিজের নতুন নিক লইল ফজলা। নামডা খানিকটা পুরুষালী, কিন্তু তাতে কি যায় আসে? কিচ্ছু না কিচ্ছু না। এই যুগে চলিতে গেলে নারী পুরুষ ভেদাভেদ আবশ্য ত্যাজ্য। তা কথা হইতেছিল  ফজলারে নিয়া। বজলা ও ফজলা একই ক্লাশে পড়ে। তাহারা পরে বিজ্ঞান-অজ্ঞান, গণিত, বাস্তুকলা, চিত্রকলা, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র, সাহিত্য ইত্যাদি। তাহাদের পড়ার বিরাম নাই। না কথাডা ভুল হইল। ফজলার পড়ার বিরাম নাই কিন্তু, বজলা পড়ার ফাঁকে-ফোঁকড়ে, চিপায় –কিঞ্চিতে ফজলারে লইয়া ভাবিবার সময় করিয়া লয়। এই নিঠুর মরুভূমিতে ফজলা যেন বজলার জমিনে এক ফোটা ভোদকা। নেশায় মাতাল বজলা, ফজলারে ইনাইয়া- বিনাইয়া, খুখ…খুখ… কাশিয়া নানান প্রকারে ভালবাসার কথা বলিতে চায়। কিন্তু ফজলা কি আর শুনে সেই কথা ? কথায় বলে চোরে না শোনে ধর্মের কথা সরকার না শোনে টুকাইদের কথা! তার পরও বজলা মনের কথা কহিবার তরে শত ঝঞ্ঝা অতিক্রম করিতে রাজি, এ যৌবনতো বৃথা গুজরান হইতেছে ।

রাত্তিরে বজলা ফুন করে ফজলারে, নানাবিধ কথা কইবার চায় … কিন্তু কইতে পারে না। আর ফজলাও যেন এক পাষান দেবী সব বুঝিয়াও না বুঝিবার ভান করিয়া চলে। সে কি আর শুনিতে চায় বজলার মনের তাইফুন। তাই বার বার বজলার কল ইগ্নোর করে। ক্লাশে দেখা হইলে অভ্যাসবশত ফজলা এক চিলতে হাসি ছুড়িয়া মারে বজলার পানে। সে হাসি আইয়ুব খাঁ, কুব্লাই খাঁ হইয়া ছুরি বসায় বজলার কানে তার পর সে ছুরি একটা সাপ হইয়া কামড়াইয়া ধরে বজলার হৃৎপিন্ডে। এই সব , অবহেলা , তাচ্ছিল্য, নরক যন্ত্রণা সব সহ্য করিয়া লয় বজলা , না করিয়া আর করিবে কি? জীবনতো একটাই, এজীবনে এ নারী অথবা মৃত্যু যেকোন একটা তার আরধ্য। দিন যায় রাত যায় বজলা ভাবিয়া কুল পায় না।  এই দিকে ভ্যাগ্যের নির্মম চুলকানী একজিমায় পরিণত হইল। রানের চিপায়-চাপায়, হৃদয়ের শীরা-উপশীরায় ছড়াইয়া যায় এ চুলকানী। বজলা আর থাকিতে পারে না।

তার পর একদিন আসিল সেই মহেন্দ্র ক্ষণ , আসিল মহা সুযোগ। ফজলা বন্ধু সমেৎ জঙ্গলে যাইবার প্রস্তুতি লয়। বজলা ভাবিল এই তার জীবনে সবচেইয়ে বড় সুযোগ। সে ও প্রস্তুতি লয়। কমলাপুর হইতে তাহাদের ট্রেন ছাড়িয়া যায় রাত ১০টায়। বজলা ছলনা করিয়া ফজলার পাশের সিটে বসিয়া পড়ে। বসিয়াই সে উন্মনা হইয়া পড়ে । ফজলা কাছে থাকিলে বজলা যেন সমদ্রের অতলে হারাইয়া যায়। তাহার কানে তব্দা লাগিয়া যায়, অন্য কিছু সে আর শুনিতে পারে না। শোনে শুধু একটি নাম ফজলা , ফজলা, ফজলা। তাহার চারিদিক ব্যাষ্টন করিয়া থকে ফজলার দেহের মিষ্টি গন্ধ। মৌ মৌ ঘ্রাণে বজলা যেন এক মৌমাছি, চান্স পাইলে ফুটাইয়া দিতে চায় হুল। ট্রেন চলিতে থাকে ঝকর ঝকর ঝকর ঝকর, আশে পাশের বন্ধু বান্ধবেরা করিতে থাকে বকর বকর বকর বকর। আর বজলা আশায় থকে কখন  ফজলার সেই জল্লাদ চক্ষুদ্বয় একবার ঘুরিবে তার দিকে। তবে মাঝে মাঝে অই দৃষ্টি  নিক্ষিপ্ত হয় বজলার দিকে বজলা তখন এই ঝকর ঝকর হইতে নিমিষে উড়িয়া যায় সরিষা খেতের হলুদের মাঝে। তার পরও বজলা তার সিধান্তে অটল আজ রাতই তার জীবনের  সবচেয়ে কঠিন রাত। আজ রাতেই সে বলবে , হয় তুমি নয় মৃত্যু। বজলার মাথায় এঙ্গেলস্‌ বার বার বলিয়া যায় নীতিতে হও অটল কৌশলে নমনীয়। বজলা মাথা ঠান্ডা করিবার চেষ্টা করিতে থাকে , আজ এই যামিনি যাবে না বৃথা।

ট্রেন আরো দুর আগাইতে থাকে। ঈস্বরদীর কাছাকাছি আসিয়া কি কারণে যেন ট্রেন থামিয়া যায়। তখন নিশুতি রাত। ট্রেনের সকলেই ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। ট্রেন থামিবার ঝাকুনিতে বজলার যে তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব হইসিল তা কাটিয়া যায়। আবছা আলোতে সবাইরে মনে হয় মৃত। বজলা কি করিবে ভাবিয়া পায় না। এমন সময় জানালা দিয়া ঢুকিয়া পড়ে কিছু সুদর্শন। ইতিউতি ঘুরিয়া বেড়াইতে থাকে তারা। বজলার দৃষ্টি অনুসরন করিতে থাকে তাদের। হঠাৎ করিয়া একটা সুদর্শন দলছুট হইয়া পড়ে, কোন দিকে যাইবে ভাবিয়া কুলা পায় না। মিটি মিটি আলো জ্বালিতে জ্বালিতে সে উড়িয়া যায় ফজলার মুখের উপর। বজলা অবাক হইয়া দেখিল এই ঘটনা। তৎক্ষনাৎ তার মনে পড়িয়া গেল তাহার সংকল্পের কথা। আসন ছাড়িয়া উঠিয়া পড়িল সে, চারিদিলে চোখ বুলাইল। নাহ্‌! কেউ দেখিতে পায়নাই তারে , সবার যেন এক মরণ ঘুম। কোন কিছুই টের পাইবে না কেহ। ফজলার সিটের সামনে আসিয়া দাঁড়ায়  বজলা। উত্তেজনায় কাঁপে থরথর । ভয় আসিয়া তার বুক দুমড়াইয়া দিতে চায়। মিহি গলা করিয়া বজলা ডাকে, ফজলামণি……ও ফজলামণি……। শান্ত, নির্লিপ্ত ভাবে চোখের পাতা সরিয়া যায় ফজলার। কানে তাহার হেডফোন, এম্পি৩তে বাজিতেছে , চোলিকা পিছে ক্যা হ্যা চোলিকা পিছে……চুনরিকা নিচে ক্যা হ্যায় চুনড়ি কা নিচে…………।

সামনে দাঁড়ানো বজলা দুই হাত দিয়া এক টানে ছিড়িয়া ফেলে তাহার শার্ট…… পকেট হইতে বাহির করে একটা বলাকা ব্লেড…… ফজলা তাকাইয়া থাকে নিস্তরঙ্গ দৃষ্টিতে। বজলা বলিয়া যাইতে থাকে সে ফজলারে সে কত্ত ভালবাসে, আরো বলিতে থাকে তার এই গঞ্জনা বঞ্ছনা আর সহ্য হয় না , এর একটা বিহীত করিয়াই ছাড়বে আজ। ফজলা তাকায়া থেকে নিঃস্পলক, নির্লিপ্ত তাহার দৃষ্টি। বজলা ডান হাতে ব্লেড লইয়া  নিজ বুকে একের পর এক আচড় কাটিয়া যাইতে থাকে, বলিতে থাকে তুমি আমারে আর কত কষ্ট দিতে পারবা? আর কত দিতে পারবা? ফজলার কোন ভাবান্তর হয় না…… হঠাৎ করিয়া সে চোখ বন্ধ করিয়া ঘাড় কাইৎ করিয়া দেয়। আর ভাবিতে থাকে এমন আজে বাজে স্বপ্ন কেন যে সে দেখে !!

আর বজলা টাশকি খায়। টাশকি কাটিয়া গেলে ছেড়া জামা আর বুক লইয়া কাদিতে কাদিতে টয়লেটে ঢুকিয়া পড়ে।

ঈস্বরকান্তি ২ : ঈস্বরকান্তি একদা কুড়াল মারিলেন

আরফান আহমেদ

তার আরো অনেকদিন পর ঈস্বরকান্তি বিভিন্ন স্থানে গমনেচ্ছা বাদ দিয়া স্বগৃহে অবস্থান করা শুরু করিলেন। প্রথম প্রথম বিটলস্‌, পিংকফ্লয়েড, সুমন-সাবিনা, কণিকা-রবীন্দ্রনাথ, আসা আকিরা-সাশা গ্রে, পেঙুইন-তালপাতা ইত্যাদি দিয়া  দিনকাল ভালই গুজরান হইতেছিল। কিন্তু কথায় বলে, সুখে থাকিলে ভুতে কিলায় আর তেলে থাকিলে আম্রিকা। ঈস্বরকান্তি নিজের জীবনের এই সুখ সহ্য না করিতে পারিয়া নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারিল; যে কুড়াল মারিবার দরকার ছিল বহু আগে যখন সে পিতা-মাতার সহিত অবস্থান করিত, আর তখন কুড়াল মারিবার উপযুক্ত স্থান ছিল তাহার ডাবল বেড; তাইলেই তার কুমারাত্ব ঘুচিয়া যাইত। যাহা হউক সে কথা অন্য আর এক দিন হইবে। স্বপ্নদিষ্ট্য হইয়া সে ই-বে হইতে এক খানা স্যাটেলাইট ফোন কিনিল। এই ফোন কিনিয়া সে আর যায় কই? দিনের পর দিন রাতের পর রাত সে ধনবান, বীর্যবান লুকদের সাথে ফোনালাপ করিতে লাগিল। তাহার ডায়াল লিষ্টে রথচাইল্ড, অশোক লেল্যান্ড, হিলারী, গাদ্দাফী, টাটা, হোয়াইট হাউয-ব্রাক উভামা কাহার নাম নাই!!! এমন ভাবেই সে তাহার অলস মস্তিষ্কের  নানান ধরণের ধারনা , আইডিয়া,কল্পনা ইত্যাদি বিভিন্ন লুকের সাথে শেয়ার করিতে লাগিল। সবাই যে তার কথাবার্তা অপছন্দ করিত বা অযাচিত ভাবিত তাহা অবশ্য নায়, কেউ কেউ তাহার কথা লাইকও করিত। যেমন মমতা ব্যানার্জী তাহার কথা লিখিয়া লইয়া বিভিন্ন জন সমাবেশে বক্তৃতা করিত, নিকোলাস সার্কোজী কিভাবে তার স্ত্রীর কাছে আরো সুদর্শন হইতে পারে এ বিষয়ে টিপস নিত, কোন কিরিম মাখিলে আরো ফর্শা হওয়া যায় এ বিষয় জানিয়া লইত কফি আনান, লিওন পেন্টা অর কাছ থেকে শুনিয়া শুনিয়াই বিভিন্ন ধরণের পাকিস্থানী-ইরাকী-আফগান পর্ণ দেখে।
এই ভাবে দিন কাটিতে লাগিল। কিন্তু কথা হইল, ঈস্বর কান্তির এই কথাবার্তায় তাহার অনেক শত্রুও তৈরি হইয়া গেল। ওরা চাহিতে লাগিল কিরূপ ভাবে ঈস্বরকান্তি নামক এই বেয়াড়া, বেয়াদব,এস্‌হোল লুকটারে শাস্তি দেয়া যায়। অনেকেই অনেক ভাবে চেষ্টা করিতে লাগিল। তাহার ফোন আসিলে অনেকেই নামি-দামী তর্কবাগীশ নিয়া বসিত, কেহ যোগীনগরের মুখ খারাপ জনির কাছ হইতে গালি লিখিয়া লইত। কিন্তু কিছুতেই ঈস্বরকান্তিরে দমানো যাইতেছে না। কারণ সে যে কঠিনেরে বাসিছে ভালু, সত্যবাদিতারে করেছে কন্ঠের মালা, কে বুঝিতে পারে  এই জ্বালা যে জ্বালায় পুড়িয়া গিয়াছে বুকের লোম। তাইতো ইয়েমেনে ড্রোন হামলার প্রতিবাদে সে ব্রা.উভামারে ফুন করিল…

ক্রিং ক্রিং……

হ্যাল্লো কাল্লু মাম্মা?

হয়, তুমি মাম্মা কেডা?

আমি ঈস্বর…

চু**রে, …… আমি কি মইরা গেসি? আল্লায় আমারে ফুন করে ক্যালা? (কান্না কান্না ভাব করিল)

আমি আল্লা নই আমি হইলাম মাম্মা, ঈস্বরকান্তি

ওহ্‌!! যাউক মামা বাঁচাইলা, আমি কি না কি ভাবসিলাম………

মিয়া নাটক মারাও? তুমার ফুনে কেডা কল করসে ঐ লেহাডা উডেনা মনয়?

ইয়ে মানে উডে , তয় কামে আছিলাম তো বালামতে দেহা পারি নি

কাম আর কি কর জানিনা মনয় মিয়া ? এদিক বুমা ফালাও আর উ দিক বুমা ফালাও…

যাউকা তুমার মত তো , অন্ততো ঘরে বয়া বাল ফালাই না, বুমাই ফালাই………………

অইডা ফালাইলেই বালা করতা…………অই মিয়ায় হুন, হুনলাম তুমি নাকি ইয়েমেনে ড্রোন হামলা করবা?

কি ধন হামলা? এইসব অশ্লিল কথা কি কও? আমার বৌবাচ্চা আছে আমি এই সব আকাম কু কামে নাই তুমি কিলিন্টনের লগে যুগা-যুক কর…

হালায় বুইজ্জাও না বুজার ভান মারাইতাসো???  ইয়েমেনে ডি আর ও ণ হামলা চালাইবা ক্যালা? অরা তুমার কি করছে?

তার আগে কও তুমার হাগা কি পরিষ্কার? মানে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য নাই তো?

আমার অই কতার লগে এই কতার কি রিলেশন?

আরে মিয়া কও না?

আছে আছে মনৈতাসে, দুই তিন দিন ধইরা কেমন কেমন জানি লাগে……………

তাইলে আমি কই , তুমি মামা আমারে যা ভাবস আমি তা না , আমি ব্রা. উভামা না, আমি কাশেম চাকলাদার  কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের ওষুধ বানাই, উভামা ভাইয়ের অবস্থা কয়েক দিন ধইরা খুব খারাপতো তাই আমারে ডাইকা লইল। কইল বাজান আমারে বাচাও…… উনির চিকিৎসা করতাসি আইয দুই মাস , হাল এখনো ভালা হই নাই তাই অফিসে আসে না , তাই আমি উনির হয়া  মাঝে মাঝে ফুন –টুন ধরি আর কি………… আর এই দিয়া এক্টু এডভেডাইসও দেই আর কি………………………তা মাম্মা তুমি কি জানি কইতাসিলা তুমার হাগু ইদানিং শক্ত শক্ত হয়া যাইতাসে……………

না মানে ইয়ে আমি তাইলে আইয  রাখি…

আরে মিয়া রাখবা কেন? বেকারগো লাইগা বিশেষ কমিশন আছে তো……

ঈস্বর কুনু মতে ফোন রাখিয়া হাপাইতে লাগিল? এ কি হইল তাহার? এমন অস্থীর বোধ করিতেছে কেন সে ভাবিল মনে মনে।

তার পর কিয়ৎক্ষণ  পরে আবার সে অই নাম্বারে ডায়াল কর শুরু করিল……………………

বয়োজ্যেষ্ঠ একাকি একটি বট বৃক্ষ

এমদাদুল হক

গুরুর হঠাৎ করিয়াই একা একা লাগিতে লাগিলো। সে অনেক দিন আগের কথা, ততদিনে গুরুর একমাত্র শিষ্যের সাথে মৎস প্রেম বিষয়ক জটিলতায় গুরু শিষ্যের বিয়োগ ঘটিলো। এবং মাছের প্রেম বিষয়ক জটিলতা সমাধান পরবর্তী, নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত ঘটিল। গুরু স্থির করিলেন, সংসার ধর্ম ত্যাগ করিবেন অতঃপর ধ্যানরত রহিবেন। গুরু বাছিয়া লইলেন  বয়োজ্যেষ্ঠ একাকি একটি বট বৃক্ষ। যাহার তলে বসিয়া ধ্যান করিবার বাসনায় তিনি ক্রমেই অস্থির হইয়া উঠিয়াছিলেন। ইতিমধ্যে গুরুর সুনাম চারিদিকে ছড়াইয়া পরিতে লাগিলো। তিনি যথারীতি বটবৃক্ষ তলায় ধ্যান মগ্ন হইলেন। গুরুর হঠাৎ করিয়াই একা একা লাগিতে লাগিলো। অতঃপর: দিনে দিনে সপ্তম দিন অতিবাহিত হইবার কালে একজন নতুন শিষ্য আসিয়া, গুরু বলিয়া… ভক্তিসহ পদতলে জায়গা করিয়া লইলো। গুরু শিষ্যকে গ্রহন করিলেও গুরুর হঠাৎ করিয়াই একা একা লাগিতে লাগিলো। এগারোতম দিনে চারিদিক হইতে হু হু করিয়া জনাদশেক শিষ্য আসিয়া, গুরু বলিয়া… ভক্তিসহ পদতলে জায়গা করিয়া লইলে, তখনও গুরুর একা একা লাগিতে লাগিলো। ততদিনে সেই পুরানো শিষ্যকে আর খুজিয়া পাওয়া গেল না এবং গুরু ধ্যান মগ্ন অবস্থায় দ্বিতীয় বারের মত মাছ ও পাখির প্রেম বিষয়ক আলোচনা শুরু করিলেন। গুরু বলিলেন, “একটি মাছ যদি পাখিকে ভালোবাসিয়া ফেলে, তাহলে তাহারা ঘর বান্ধিবে কোথায় ?” শিষ্যগন প্রথমে মাথা ঝাকাইলেন এবং পরবর্তিতে একই সঙ্গে সশব্দে জী হুজুর.. জী হুজুর বলিয়া উঠিলো। গুরুর হঠাৎ করিয়াই একা একা লাগিতে লাগিলো। যে সকল শিষ্যগন গুরুর সঙ্গী ছিলেন তাহারা গুরুকে এতই ভক্তি করিতো যে, গুরুকে ব্যক্তিগত কুশলাদি জিগ্গেস করাকে ক্ষমা অযোগ্য অপরাধ বলিয়া বিবেচনা করিত। যাহার ফলে শিষ্যগন গুরুর কুশলাদী বিষয়ক কোন বাৎচিতে কখনো যায়নি। যেহেতু গুরুর বসিবার স্থানে সাধারন মানুষ প্রবেশ করিতো না, সেহেতু গুরু একা বোধ করিতে লাগিলেন।

একটি মাছ ও পাখির ডানা


এমদাদুল হক

একটি মাছ ভালোবাসার কথা বললেই সমস্যাটা দেখা দিল। সমস্যাটাকে কেন্দ্র করে  গুরু শিষ্য  আলোচনার সূএপাত ঘটিলো। শিষ্য কিছুতেই বুঝিয়া উঠিতে পারিলো না কেন বা একটি জলে বাস করা মাছ এর প্রয়োজন পরিলো প্রেম করিবার। সে বিষয়টা স্বাভাবিক বলিয়া  মেনে নিতে পারিলো না। সেই সময়ে মাছ এর প্রেম বিষয়ক আলোচনায়  গুরু শিষ্য নিজেদের মধ্যেই তর্কে লিপ্ত হইলেন। তর্কের বহু বছর পরে শিষ্য বুজিতে পারিলো এবং উপলব্ধি করিলো।

ইহা অনেক কাল আগের বয়ান, যেইখানে মাছ ও পাখি বিষয়ক ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটিয়াছিলো। ঘটনাচক্রে  গুরু শিষ্যের প্রতি মনক্ষুন্ন হয়, তাহাতে গুরু শিষ্যের  প্রেমের ইতি ঘটিয়াছিল। বহু বছর পরে আজ আবার মাছের প্রেম বিষয়ক কথপকথনে তাহারা একএিত হইলো।

যেহেতু মাছ ডাঙ্গায় উঠিবে না এবং পাখিও জলে বাসা বাধিতে অপারগ, সেহেতু এই সম্পর্ক ইতি যেগ্য। তাহাতে মিলনের সম্ভাবনা থাকে না। সুতরাং এইখানেই সবকিছুর নিষ্পত্তি হইবে।

গুরু শিষ্যের প্রেমের ইতি হইবর বহুকাল পরে, গুরুর নতুন শিষ্যের আগমন ঘটিলোও শিষ্য একা হইয়া গেল। নতুন কোন গুরুর আগমন তো ঘটেনি বরং পুরানো বন্ধুদয় গুরুমুখি হইয়াছে বিধায় শিষ্যের আর কোন বন্ধুজন রহিলো না। সকলে যেন পাখি হইবার বাসনা পূর্নের আনন্দে আকাশে পাখি হইয়া উড়া উড়ি করিতে লাগিলো। বালক শিষ্য যেনবা মাছ হইয়াই জন্মাইয়াছে এবং উপলব্ধি করিলো :

“একটি মাছ যদি পাখিকে ভালোবাসিয়া ফেলে, তাহলে তাহারা ঘর বান্ধিবে কোথায় ?”